গত কয়েক বছর ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের ভিতরে ‘নবীন বনাম প্রবীণ’ দ্বন্দ্ব বেশ প্রকট হয়ে উঠেছে। নাগরিক মহল মনে করেন নবীন তৃণমূলের মুখ অভিষেক ও প্রবীণ তৃণমূলের মুখ মমতা। সেই আলোচনাকে শেষ করে দিলেন একটি বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কাঁথি সমবায় ব্যাঙ্কের বৈঠকে ফোনে বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। এর আগে জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন, দলের রাশ তাঁরই হাতে রয়েছে। কালীঘাটের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে প্রবীণদের বিশেষভাবে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। সেখানে তিনি বলেছিলেন, তিনি ও সুব্রত বক্সি দল চালাবেন। তবুও মাঝে মাঝেই অভিষেকের নেতৃত্বের কথা কারো কারো মুখে শোনা যায়। বুধবার কাঁথি সমবায় ব্যাঙ্কের নির্বাচনের পর পূর্ব মেদিনীপুরের বিধায়কদের সঙ্গে ফোনে পাঁচ মিনিট কথা বলেন মমতা। আর সেখানেই তিনি বলেন, “যে যাই ভাবুন, আমিই দলের চেয়ারপার্সন, আমিই দল চালাব। দশ বছর চালাব।” স্বাভাবিক কারণেই মনে হয় এবার অভিষেকের কিছুটা পিছনে ফেরার সময় এসেছে।
যদিও সেই বার্তা আগেই পেয়েছিলেন অভিষেক। তাই একদিন আগেই ফলতা থেকে তিনি বলেন, ‘’যে কোনও প্রতিষ্ঠানেই মতবিরোধ হয়। একটা দল যখন বড় হয়, তখন এটা স্বাভাবিক।’’ একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে দলের সর্বস্তরে কড়া বার্তাও দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘কয়েক জনের মধ্যে বিরোধ থাকতেই পারে। তবে কেউ দলের ক্ষতি করলে বা কোনও অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকলে নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলে ভাল লোক থাকে, খারাপ লোকও থাকে। দলের শৃঙ্খলা সকলকে মেনে চলতে হবে।’’ এর আগেও এই বিতর্ক সামনে এসেছিলো। ২০২৪-এ তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসে অভিষেক বলেছিলেন, “আমি মনে করি, রাজনীতিতে একটা ঊর্ধ্বসীমা থাকা দরকার। যে পরিশ্রমটা একজন ৪০ বছরের যুবক কিংবা ৫০ বছরের লোক করতে পারবে, সেটা কোনওদিন বয়স বেড়ে গেলে ৭০-৭৫ হয়ে গেলে প্রোডাকভিটি কমে।” তার অব্যবহিত পরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন,”কীসের বয়স? মানুষের মনের কি কোনও বয়স আছে? যতদিন বাঁচবেন রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মতো বাঁচবেন।” এবার মনে হচ্ছে, সেই বিতর্কর অবসান ঘটে চলেছে।